বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
‘The Bengal Co-operative Societies Act, 1940’ এবং ‘The Bengal Co-operative Societies Rules, 1942’ এর
বিধান অনুসারে ১৬ জুন, ১৯৬১ তারিখে নিবন্ধন নং-৩৪ সমবায় অধিদপ্তর হতে ‘পূর্ব পাকিস্তান সমবায় ইউনিয়ন’
নামে নিবন্ধন লাভ করে। পরবর্তীতে সমবায় সমিতি অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ এর বিধানের আলোকে ০৬ নভেম্বর, ১৯৮৬ তারিখে
উপবিধি সংশোধনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত, ২০০২ ও ২০১৩) এবং সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত, ২০২০) এর আলোকে
ইউনিয়নের উপ-আইন পুনরায় সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন নং-সম-১০৩ তারিখ:
০৩/০১/২০২৫ মূলে সংশোধিত উপ-আইন অনুমোদন লাভ করে। সংশোধিত উপ-আইন অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায়
ইউনিয়নের কর্ম এলাকা ও সদস্য নিবন্ধন এলাকা সমগ্র বাংলাদেশ।
আইনগত মর্যাদা:
সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (সংশোধিত, ২০০২ ও ২০১৩) এর ০৮(১) ধারা অনুযায়ী সমবায় সমিতির শ্রেণীবিভাগ :
- (ক) প্রাথমিক সমবায় সমিতি, অর্থাৎ এমন একটি সমবায় সমিতি যাহার সদস্য সংখ্যা হইতেছে ন্যূনতম ২০
(কুড়ি) জন একক ব্যক্তি এবং যাহার উদ্দেশ্য হইতেছে বৈধ উপায়ে সদস্যদের অর্থ-সামাজিক অবস্থার
উন্নয়ন ----------;
- (খ) কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি, অর্থাৎ এমন একটি সমবায় সমিতি যাহার সদস্য হইতেছে একাধিক অন্ততঃ ১০
(দশ) টি প্রাথমিক সমবায় সমিতি এবং যাহার উদ্দেশ্য হইতেছে উক্ত সদস্য সমিতিগুলির কার্যক্রম সমন্বয়
সাধন ও পরিচালনায় সহায়তা প্রদান ----------;
- (গ) জাতীয় সমবায় সমিতি, অর্থাৎ এমন একটি সমবায় সমিতি যাহার সদস্য হইতেছে একই উদ্দেশ্যসম্পন্ন
অন্ততঃ ১০ (দশ) টি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি এবং যাহার উদ্দেশ্য হইতেছে সারাদেশব্যাপী উক্ত সদস্য
সমিতিগুলির কার্যক্রম সমন্বয় সাধন ----------;
- (ঘ) জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন, অর্থাৎ এমন একটি সমবায় সমিতি, যাহার সদস্য হইবে ইউনিয়ন, জেলা, বিভাগ ও
দেশব্যাপী কর্ম এলাকা বিশিষ্ট প্রাথমিক সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি ও জাতীয় সমবায়
সমিতি;
- (ঙ) দফা (খ) এর অধীন গঠিত জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন উহার সদস্য সমিতির সহায়ক হিসেবে কাজ করিবে এবং
উহার কার্যাবলী ও ব্যবস্থাপনা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
সমবায় সমিতি আইন ও বিধিমালার আলোকে নিবন্ধিত যে কোন প্রাথমিক সমবায় সমিতি, কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি
এমনকি জাতীয় সমবায় সমিতিগুলিও বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সদস্য হইবার আইনি বিধান রাখা হইয়াছে
এবং সমবায় ইউনিয়নকে সদস্য সমিতিগুলির সহায়ক হিসেবে কাজ করার বিষয়টি অনুমোদন করা হইয়াছে। তাই
বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের আলাদা একটি মর্যাদা রহিয়াছে। এটি অন্য জাতীয় সমবায় সমিতিগুলোর মত
নয়। এই সমিতি (ইউনিয়ন) কোন প্রকার ব্যবসা পরিচালনা করে না, ফলে ইউনিয়নের নিজস্ব কোন আয় নাই। উপরন্তু
অফিস পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ২/৩ জন কর্মচারীর বেতন, অফিস ভাড়া এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করিতে হইলে
কিছু অর্থ ব্যয় করিতে হয়। ইউনিয়নের নিবন্ধন ফি এবং বার্ষিক চাঁদা সংগ্রহ করাও একটি কষ্টসাধ্য কাজ।
ইউনিয়নের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছে।
এই লক্ষ্যে একদিকে ইউনিয়নের উপ-আইন পুনঃপ্রণয়ন করিয়া সংযোজন করা হইয়াছে যে সদস্য পদের ক্ষেত্রে
ভর্তি ফি এবং বার্ষিক চাঁদা (অফেরতযোগ্য) প্রদানের মাধ্যমে সদস্য ভর্তির বিধান রাখা হইয়াছে এবং অপরদিকে
সদস্য হওয়ার জন্য কোন প্রকার শেয়ার, সঞ্চয় বা আমানত রাখার কোন বিধান রাখা হয় নাই।
সুতরাং সমবায় সমিতি আইন ও সমবায় সমিতি বিধিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন হচ্ছে সমবায়
সমিতিগুলোর সর্বোচ্চ ফোরাম এবং পরোক্ষভাবে দেশের সকল সমবায় সমিতির অভিভাবক।
ইউনিয়নের কার্যক্রম
বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নিরলসভাবে কাজ
করে যাচ্ছে। বিগত ৫২তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর হতে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বর্তমান
ব্যবস্থাপনা কমিটি সম্পাদন করেছে, যা বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নলিখিত
কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে :
- ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়মিত সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং সিদ্ধান্ত
বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে।
- নিয়মিত আর্থিক কার্যক্রমের নির্ভুল হিসাব প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম
যথাযথভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
- ইউনিয়নকে লাভজনক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সদস্য সমিতিগুলোর সাথে যোগাযোগ
নিশ্চিত করা হচ্ছে।
- ইউনিয়নের কার্যক্রম বিষয়ে সমবায় সমিতিগুলোর সাথে যোগাযোগ, সমবায় বিভাগের সাথে সমবায় ব্যবস্থাপনার
সার্বিক বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
- আন্তর্জাতিক সমবায় সংস্থা (আইসিএ) এর সাথে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
- সমবায় প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনারে ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন।
- যথাসময়ে নির্বাচন, বার্ষিক সাধারণ সভা, নিরীক্ষা কাজ, নিরীক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন, সমবায় বিভাগ হতে
যাবতীয় তথ্য যথাসময়ে প্রেরণ করা হচ্ছে।
- দেশের সকল নিবন্ধিত প্রাথমিক, কেন্দ্রীয় ও জাতীয় সমবায় সমিতিগুলোকে জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সদস্য
অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে বিভাগ ও জেলা কমিটি গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভর্তি ফি ও বার্ষিক
চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে ইউনিয়নের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
- সদস্য সমিতিসমূহ হতে বকেয়া বার্ষিক চাঁদা আদায় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নোটিশ প্রদান, সমবায় বিভাগের
সহায়তা গ্রহণ এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দকে বিভাগীয় দায়িত্ব প্রদান করে বকেয়া চাঁদা আদায় ও
সদস্য ভর্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও সদস্য সমিতিগুলো বার্ষিক চাঁদা পরিশোধ না করলে অডিট
রিপোর্টে তা নির্ধারণ করে রিপোর্ট করতে নিরীক্ষক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।
- জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের কার্যালয় স্থাপনের জন্য সমবায় নিকেতন ফোর বরাদ্দ পাওয়ার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ
করা হয়েছে এবং নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মহোদয়ের বরাবর পত্র দেয়া হয়েছে।
- জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের কার্যক্রম দেশব্যাপী তদারকি করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা
হয়েছে এবং ইউনিয়নের কর্মকর্তা কর্মচারীদের চাকরির বিধিমালা/সার্ভিস রুল প্রণয়ন করা হয়েছে।
- সমবায় আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।
- জেলা সমবায় ইউনিয়নগুলোকে কার্যকর করা এবং নিয়মিত কমিটি গঠন করা। জেলার আওতায় নিবন্ধিত সমিতিগুলোকে
জেলা সমবায় ইউনিয়নের সদস্য করা এবং জেলাভিত্তিক সমবায়ীদের সাথে জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের
সাথে মতবিনিময় সভা করে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সমবায় আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে ইউনিয়নের ভূমিকা
রাখা।
- সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে সভা, সমাবেশ, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ করা এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানের
মাধ্যমে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে উদ্যোগ গ্রহণ। আন্তর্জাতিকভাবে সমবায়ীদের শিক্ষা সফরে প্রেরণের
উদ্যোগ গ্রহণ।
- সমবায় সমিতির ন্যায্য দাবি ও প্রাপ্য আদায়ে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ।
- সমবায় আইন বিধিমালায় সমবায় সমিতির নীট লাভের ১০% অডিট ফি ও ৩% সমবায় উন্নয়ন তহবিল পরিশোধ বিধান
থাকা অবস্থায় নতুন করে রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ২০% আয়কর ধার্য করার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে জাতীয় সমবায়
ইউনিয়ন কর্তৃক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উদযাপন উপলক্ষে জেলা/জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতির সভাপতিত্বে
অনুষ্ঠান আয়োজন করতে সমবায় অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে।
আইসিএ সদস্যপদ
বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন বিগত ১৯৮০ সালে বিশ্বব্যাপী সমবায়ের সর্বোচ্চ ফোরাম International
Cooperative Alliance (ICA) এর সদস্যপদ গ্রহণ করে। বাংলাদেশের সমবায় কার্যক্রমকে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরার
মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন কাজ করে থাকে। আন্তর্জাতিকভাবে সমবায়ীদের প্রশিক্ষণ, সফল সমবায়
সমিতি পরিদর্শন, আন্তঃসমবায় সম্পর্ক স্থাপন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের মাধ্যমে দেশের সমবায় সমিতিগুলোকে সু-সংগঠিত করে সমবায় সমিতি ও সমবায়
বিভাগের অধিকার আদায়ের মাধ্যমে সমবায় আন্দোলন শক্তিশালী করতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি আন্তরিকভাবে কাজ
করছে। সমবায় বিভাগ ও সমবায় সমিতির আর্থিক সহযোগিতা খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়ন
সমবায় আন্দোলন এবং দেশের সমবায় বিভাগের জন্য দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করবে।